অকাল মৃত্যু’ বলে কিছু নেই

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের বলে দিয়েছেন ‘"প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে"’ (সূরা আরাফ-৩৪)। 


অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ ফরমান, "‘যদি আল্লাহ লোকদেরকে তাদের অন্যায় ও খারাপ কাজের কারণে পাকড়াও করতেন, তবে ভূপৃষ্ঠে চলমান কোনো কিছুকেই ছাড় পেতো না। কিন্তু তিনি প্রতিশ্রুত সময় পর্যন্ত তাদেরকে অবকাশ দেন, সময় দেন, সুযোগ দেন। অতঃপর নির্ধারিত সময়ে যখন তাদের মৃত্যু এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তও বিলম্বিত কিংবা ত্বরাম্বিত করতে পারবে না"’ (সূরা নাহল-৬১)।

অথচ আমাদের সমাজে ব্যবহৃত প্রসিদ্ধ একটি শব্দ "‘অকাল মৃত্যু"’। গ্রামে-শহরের টাঙানো প্রায় ব্যানারে দেখা যায় অমুকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। নাউজুবিল্লাহ!

অকাল মৃত্যু বলতে বোঝায় কালের আগে মৃত্যুবরণ করা। মৃত্যুবরণ করার কথা ছিল অমুক তারিখ, এর আগেই মৃত্যুবরণ করলে বলা হবে অকাল মৃত্যু। অকাল মৃত্যু শব্দ থেকে বোঝা যায়, মৃত্যুবরণ করার কথা ছিল অমুক তারিখ, আল্লাহ তায়ালা এর আগেই দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নিয়েছেন। নাউজুবিল্লাহ! 
এতে আল্লাহর মর্যাদার ক্ষুন্ন হয়। বরং এ কথা বলা যেতে পারে যে অমুক অল্প বয়সেই ইন্তেকাল করেছে।
আসলে মৃত্যুর কোন সিরিয়াল নেই। কেউ মায়ের গর্ভে, আবার কেউ শৈশবে, কেউ কৈশোরে, কেউ যৌবনে, কেউ আবার বৃদ্ধাবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এগুলো সব রবের ইচ্ছা। এখানে কারো কোনো হাত নেই।
আবার কেউ গাড়ি এক্সিডেন্টে, পানিতে পড়ে কিংবা অল্পবয়সে মৃত্যুবরণ করলে কিছু মানুষ অপমৃত্যু, অকাল মৃত্যু, খারাপ মৃত্যু, পোড়া কপাল বলে সম্বোধন করে। নাউজুবিল্লাহ!

এসব শব্দ আল্লাহর ক্ষমতার সাথে সাংঘর্ষিক ও কুফরি। মুমিনের মৃত্যু অকাল হতে পারে না। বরং একটি নিয়ামত! 
কারণ, পৃথিবীর জীবন আর জান্নাতের মাঝে গেইট হলো মৃত্যু। মৃত্যু না হলে আপনি জান্নাতে যেতে পারবেন না।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দিন-আমীন! আর যারা এই লেখাটি পড়েছেন, তাদের জন্য একটি সবক। মনে রাখবেন, "‘অকাল মৃত্যু"’ শব্দটি মুমিনের মুখে বেমানান। ও কুফরি বাক্য।

@ মৃত্যুর সহযাত্রী, আবু সিদ্দিক, পহরচাঁদা, চকরিয়া, কক্সবাজার। 

Comments

Popular posts from this blog

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চালু থাকার শঙ্কা

কবিতাঃ হুজুর তুমি! সুযোগ সন্ধানী

কবিতাঃ কালুরঘাটের তাকবির