চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী

 চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন একদিনে বাস্তবায়ন হয়নি। এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কিছু ক্ষণজন্মা মানুষের স্বপ্ন সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষা চট্টগ্রামবাসীর জন্য এটা ছিল ‘চাওয়া পাওয়া সোনার হরিণ’। ষাট দশকে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের বহু পূর্বে ত্রিশ, চল্লিশ দশকে প্রথম একজন কৃতিপুরুষ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তুলেছিলেন। আজ তাঁকে আমরা ভুলতে বসেছি, বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই তা জানে না। বার আউলিয়ার আবাদ ভূমি ইসলামের প্রবেশদ্বার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মূলত সর্বপ্রথম একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পুরোধা চট্টল গৌরব মরহুম মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। চট্টগ্রামের দক্ষিণ মহকুমার কর্ণফুলীর তীরবর্তী দেয়াঙ পাহাড়ে আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ছিল তার আজীবন। ১৯১৫ সালে তিনি সেই লক্ষ্যে সরকার থেকে ৬০০ বিঘা জমি ও ওই এলাকার জমিদার আলী খান থেকে ৫০০ কানি ভূমি রেজিস্ট্রিমূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। বিখ্যাত নেতা ও শিক্ষাবিদ শেরেহিন্দ মাওলানা শওকত আলী ১৯৩৫ সালে এ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি স্থাপন করেন। জঙ্গে জিহাদ, শাহ বদিউল আলম, শাহ জুলফিকার এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রবল সমর্থক হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করার লক্ষ্যে ঐ সময় চট্টগ্রামে থাকতে রাজি হন। দেয়াং পাহাড়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐ স্থান পরিদর্শনে এসে মুগ্ধ হন ভারতীয় সেরা রাজনীতিক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা আকরম খাঁ, মুন্সী রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, মাওলানা মোহাম্মদ আলী, মাওলানা শওকত আলী। তিনি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। কিন্তু তবে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার হাজারো আলেমের মনের ঐকান্তিক ইচ্ছার ফল স্বরূপ ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। যাদ্বারা হয়তো আলেম সমাজের মনের বাসনা পূরণ লাভ করেছে। মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর শিক্ষক। তিনি কদম মোবারক মুসলিম এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পটিয়ার দেয়াঙ পহাড়ে তিনি ইসলামী আরবী বিশ্ব বিদ্যালয়ের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ত্রিশ চল্লিশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানাধীন দেয়াং পাহাড়ে একটি ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে একটি জায়গাও তিনি দান করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর একটি অদৃশ্য কারণে তা ধামাচাপা পড়লেও ষাট দশকের প্রারম্ভে যখন পুনরায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু হয় তখন এটা দেয়াং পাহাড়ের নান্দনিক পরিবেশে স্থাপনের দাবী উঠেছিল।

Comments

Popular posts from this blog

ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চালু থাকার শঙ্কা

কবিতাঃ হুজুর তুমি! সুযোগ সন্ধানী

কবিতাঃ কালুরঘাটের তাকবির